অম্মোন, মোয়াব ও মাউন্ট সেয়ির পরাজিত

1. কিছু কাল পরে, মোয়াবীয়, অম্মোনীয় ও মাযোনীয ব্যক্তিরা য়িহোশাফটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিলেন

2. কিছু লোক এলো এবং যিহোশাফটকে বলল, “মৃত সাগরের ওপারে, ইদোম থেকে একটা বড় সড় সৈন্যদল যাত্রা শুরু করেছে

3. যিহোশাফট ভীত হলেন এবং প্রভুর সাহায্য চাইবেন বলে ঠিক করলেন

4. যিহূদার প্রত্যেক শহর থেকে লোকরা প্রভুর কাছ থেকে সাহায্য চাইবার জন্য জড়ো হলো

5. যিহোশাফট প্রভুর মন্দিরের নতুন উঠোনে যিহূদা ও জেরুশালেমের সমবেত লোকদের সামনে দাঁড়ালেন এবং

6. বললেন, “হে প্রভু! আমাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বর, তুমিই স্বর্গের অধীশ্বর

7. হে ঈশ্বর, এই দেশের লোকদের তুমি এই স্থান পরিত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলে এবং তারা ইস্রায়েলের লোকদের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল

8. তারা এই অঞ্চলে বাস করত এবং এখানে তোমার নামের জন্য একটি পবিত্র স্থান নির্মাণ করেছে

9. তারা বলেছিল, ‘যদি কোনদিন কোনো বিপদ আমাদের কাছে আসে- তরবারি, শাস্তি, রোগসমূহ অথবা দুর্ভিক্ষ, আমরা এসে এই মন্দিরের সামনে, প্রভু তোমার সন্মুখে দাঁড়াব

10. “কিন্তু এখন অম্মোন, মোযাব আর সেয়ীযের পার্বত্য অঞ্চলের সেইসব অধিবাসীরা এসে ইস্রায়েলের আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছেন যাদের রাজ্য তুমিই বয়ং একদিন ইস্রায়েলীয়দের আক্রমণ করতে দাওনি বলে তারা রক্ষা পেয়েছিল

11. অথচ দেখো আজ তারা তার কি প্রতিদান দিচ্ছে

12. হে আমাদের প্রভু ঈশ্বর, তুমি কি এদের শাস্তি দেবে না? এই যে বিপুল সৈন্যবাহিনী আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসছে তার বিরুদ্ধে আমরা ক্ষমতাহীন

13. তাই যিহূদার সমস্ত লোকরা তাদের স্ত্রী এবং ছেলেমেয়ে নিয়ে প্রভুর সামনে দাঁড়িয়েছিল

14. সেই সময়, প্রভুর আত্মা য়হসীযেলের ওপর ভর করল

15. য়হসীযেল বলল, “যিহূদা ও জেরুশালেমবাসীরা এবং রাজা যিহোশাফট, তোমরা সকলে শোনো

16. আগামীকাল তোমরা সকলে গিয়ে এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে

17. এই সংঘর্ষে তোমাদের যুদ্ধ করবারও প্রযোজন নেই

18. যিহোশাফট তখন মুখ নীচের দিকে করে আভূমি আনত হলেন

19. কহাত্‌ ও কোরহ পরিবারগোষ্ঠীর লেবীয়রা উঠে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে প্রভু ইস্রায়েলের ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগলো

20. পরদিন ভোরবেলা য়িহোশাফটের সেনাবাহিনী তকোয মরুভূমি অভিমুখে যাত্রা করলো

21. যিহোশাফট তাঁর লোকদের অনুপ্রেরণা ও নির্দেশ দিতে লাগলেন

22. ইতিমধ্যে, এরা যখন ঈশ্বরের প্রশংসা সুচক গান করছিল, প্রভু তখন অম্মোনীয, মোয়াবীয় ও সেয়ীরের লোকদের অতর্কিত আক্রমণের জন্য সেনা সাজাচ্ছিলেন

23. অম্মোনীয় ও মোয়াবীয়রা সেয়ীরের পার্বত্য অঞ্চলের লোকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শুরু করলো এবং তাদের হত্যা করলো

24. যিহূদার লোকরা যুদ্ধের ওপর নজর রাখার জায়গায় এসে পৌঁছনোর পর শএুপক্ষের বিশাল সেনাবাহিনীর সন্ধান করতে গিয়ে চতুর্দিকে শুধুই স্তূপাকার মৃতদেহ দেখতে পেলো

25. যিহোশাফট আর তাঁর সেনাবাহিনী ঐসব মৃতদেহের স্তূপের কাছে এলো এবং মৃতদেহগুলোর থেকে বহু দুর্মূল্য জিনিসপত্র যেমন জন্তুজানোযার, অর্থ, পোশাক-পরিচ্ছদ উদ্ধার করে নিয়ে গেল

26. চতুর্থ দিনে যিহোশাফট আর তাঁর সেনাবাহিনী বরাখা উপত্যকায উপনীত হয়ে প্রভুকে ধন্যবাদ জানালো

27. এরপর যিহোশাফট যিহূদা আর জেরুশালেমের সবাইকে নেতৃত্ব দিয়ে জেরুশালেমে ফিরিযে নিয়ে গেলেন

28. বীণা, বাঁশি, শিঙা, কর্তাল বাজিযে তারা জেরুশালেমে এলো এবং প্রভুর মন্দিরে গেল

29. বয়ং প্রভু ইস্রায়েলের শএুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, এখবর জানতে পেরে অন্যান্য রাজ্যগুলির প্রত্যেকে ভীত হল

30. সে কারণে য়িহোশাফটের রাজত্বকালে ইস্রায়েলে শান্তি বিরাজ করেছিল

যিহোশাফটের রাজত্বের শেষ

31. পযত্রিশ বছর বয়সে যিহূদার রাজা হবার পর যিহোশাফট 25 বছর জেরুশালেমে রাজত্ব করেছিলেন

32. যিহোশাফট তাঁর পিতা আসার মতোই সত্‌পথে জীবনযাপন করেছিলেন

33. কিন্তু অন্য মূর্ত্তিদের পূজোর জন্য বানানো উঁচু জায়গাগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয় নি এবং লোকে তাদের পূর্বপুরুষদের ঈশ্বরের কাছে নিজেদের সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করেন নি

34. তাঁর রাজত্বকালে প্রথম থেকে শেষাবধি যিহোশাফট যা কিছু করেছিলেন তা হনানির পুত্র যেহূর লেখা সরকারি নথিপত্রে লেখা আছে, যা পরবর্তীকালে ‘ইস্রায়েলের রাজাদের ইতিহাস’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করা হয়

35. যিহূদার রাজা যিহোশাফট তাঁর রাজত্বের শেষের দিকে ইস্রায়েলের রাজা অহসিয়র সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন

36. যিহোশাফট তাঁর সঙ্গে য়ৌথভাবে তর্শীশে যাবার জন্য জাহাজ বানানোর কাজ শুরু করেন

37. তখন মারেশা থেকে দোদাবাহূর পুত্র ইলীযেষর যিহোশাফটকে বললেন, “তুমি অহসিয়র সঙ্গে হাত মিলিযেছো, তাই প্রভু তোমার জাহাজগুলি ধ্বংস করবেন

Bibles

Books

Chapters